দেশের বোতলজাত পানির বাজারে চমক তৈরি করতে ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে বোতলজাত পানির কারখানা তৈরি করেছিল খুলনা ওয়াসা। এর নাম দেওয়া হয় ‘সুন্দরবন পানি’। অন্যান্য কোম্পানির চাইতে কম দাম এবং মান ভালো হওয়ায় শুরুর দিকে সম্ভাবনা তৈরি করেছিল এই পানি। কিন্তু ব্যবসায়ীক ভুল নীতি, তদারকির অভাব এবং কর্তৃপক্ষের অবহেলায় সম্ভাবনাময় সেই কারখানাটি এখন লোকসানি প্রতিষ্ঠান। উৎপাদনও নেমেছে অর্ধেকের নিচে।
ওয়াসা সূত্রে জানা গেছে, পানি সরবরাহ প্রকল্পের আওতায় ২০১৮ সালের নভেম্বর থেকে প্ল্যান্টটির আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু হয়। এতে ব্যয় হয়েছিল ১৯ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। বোতলজাত পানি বিক্রি শুরু হয় ২০২০ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে। চালুর পর থেকে প্রতি মাসে সুন্দরবন পিওর ড্রিংকিং ওয়াটার নামে ৩০০ মিলি লিটার, ৫০০ মিলিলিটার, ১ লিটার, ২ লিটার, ৩ লিটার ও ৫ লিটার করে ১৮ হাজার ২৭২ লিটার বোতলজাত পানি উৎপাদন হচ্ছে, যা ফ্যাক্টরির গেট থেকে গ্রাহক ও ডিলারের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়। অল্প দিনেই জনপ্রিয়তা পায় সুন্দরবন পানি।
কিন্তু প্রকৃত ব্যবসায়ীদের ডিলারশিপ না দিয়ে রাজনৈতিক বিবেচনায় ডিলার নিয়োগ, পণ্য বিক্রির সুনির্দিষ্ট পলিসি না থাকা, বিক্রয়ের জন্য পৃথক কোনো কর্মী এবং পণ্যের প্রচারের ব্যবস্থা না রাখা এবং কাঁচামাল কিনতে বরাদ্দ নিয়ে জটিলতার কারণে উৎপাদন তলানিতে নামতে থাকে। বোতল তৈরির কারখানায় অনেক মূল্যবান যন্ত্রাংশ থাকলেও কোনো যান্ত্রিক প্রকৌশলী নিয়োগ দেওয়া হয়নি। যন্ত্রগুলো ঠিকমতো তদারকির ব্যবস্থা না থাকায় বার বার সেগুলো নষ্ট হয়েছে। আধুনিক বাজার ব্যবস্থাপনার যুগে নিজস্ব জনবল দিয়ে প্লান্ট চালাতে গিয়ে প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে পড়ে সুন্দরবন পানি। সময়মতো কাঁচামাল কিনতে না পারায় অনেক সময় বোতল উৎপাদনও ব্যাহত হয়েছে। যার কারণে লোকসানে কাবু হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
ওয়াসার হিসাব বিভাগ থেকে জানা গেছে, ২০২০-২০২১ অর্থবছর থেকে বিদায়ী অর্থবছর পর্যন্ত বোতলজাত পানি কারখানা পরিচালনায় ওয়াসার ব্যয় হয়েছে ২ কোটি ৯ লাখ ৩৬ হাজার ৫৯৪ টাকা। অন্যদিকে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১ কোটি ২২ হাজার ১৮৫ টাকা। অর্থাৎ পাঁচ অর্থবছরে প্ল্যান্টটি লোকসানে ১ কোটি ৯ লাখ ১৪ হাজার ৪০৯ টাকা।
এ ব্যাপারে ওয়াসার উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অর্থ) ঝুমুর বালা বলেন, প্লান্টটি লাভজনক করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তবে অতীতে এই প্লান্টে দায়িত্বপালন করা এক কর্মকর্তা বলেন, বোতলজাত প্লান্ট লাভজনক করতে একজন যন্ত্র প্রকৌশলী ও প্লান্ট ম্যানজার, বিক্রিয় ও বাজারজাত প্রমোশনের জন্য দক্ষ বিক্রিয় ব্যবস্থাপক ও কর্মী এবং সময়মতো কাঁচামালের সংস্থান করতে হবে। পাশাপাশি বোতলের নকশা পরিবর্তন করে দৃষ্টিনন্দন ও আকর্ষণীয় করতে হবে। তাহলে প্লান্টটি লাভজনক করা সম্ভব।
খুলনা গেজেট/এনএম

